1. live@www.priyohalda.online : - : - -
  2. news@priyohalda.online : www.priyohalda.online www.priyohalda.online : www.priyohalda.online www.priyohalda.online
  3. info@www.priyohalda.online : প্রিয় হালদা :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন

হালদার হেরিটেজ উপাধি ঃ করণীয়

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

 

চট্টগ্রাম থেকে খবর: হালদা নদী, দেশের একমাত্র স্বাভাবিক কার্প মাছের প্রজনন কেন্দ্র ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের নদী, বর্তমানে মারাত্মক পরিবেশগত সংকটের মুখে। বিষ প্রয়োগ, দূষণ ও সংরক্ষণের অভাবে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে—যাতে স্থানীয় অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য দু’ই বিপন্ন।
বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়েও নদীতে মাছের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে বিশেষ করে বড়ো মাপের ব্রুড কাতলা মাছ ভেসে ওঠা দেখা গেছে। এই মাছগুলো সাধারণত ডিম ছাড়ার পর দুর্বল হয়ে যায়, কিন্তু দূষিত পরিবেশ ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ডাম্প করা পশুর বর্জ্য ও অমোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধির ফলে পানির গুণমান বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রসার আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে—এই মিলিত প্রভাবের কারণে মাছের মৃত্যু সাধারণ আবহিক ঘটনার চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। �

হালদা নদীর গুরুত্ব শুধুমাত্র মাছ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গঙ্গেয় ডলফিনসহ বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্প ও গৃহস্থলী বর্জ্য, অবৈধ কার্যক্রম এবং নদীর প্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি এমন বহু কারণও মিলিয়ে নদীর বাস্তুতন্ত্র আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—যা সামগ্রিকভাবে নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। �

প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত কার্প মাছের প্রজনন মৌসুমে হাজার হাজার নিষিক্ত ডিম স্বাভাবিকভাবে নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে নদীর জলমানের অপ্রতুলতা ও দূষণ এই উৎপাদন প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যতে মাছের প্রজনন কমিয়ে দিতে পারে এবং সামগ্রিক মাছের সংখ্যা হ্রাস করবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।
সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গত ৫ নভেম্বর হালদা নদীকে ‘ফিশ হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং মাছ ধরা, মাছ নিধন ও ক্ষতিকর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে নদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, জলপ্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্রকে সংরক্ষণের জন্য দুর্যোগ-জনিত ক্ষতি, মাছ ধরা, বর্জ্য নিষ্কাশনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয়—স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও গবেষকরা মনে করেন কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে নদীর বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। নদীর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে না পারলে শুধু মাছের উৎপাদনই নয়, নদীর সাথে জড়িত লাখো মানুষের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ—সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট