
হাটহাজারীতে খাল পুনঃখনন শুরু
কৃষি ও জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে উদ্যোগ, দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পৌরসদর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসনে ভাঞ্জন খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচী গৃহীত হয়েছে।
শনিবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট ও নাব্যতা হারানোর কারণে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছিল। পরিকল্পিত পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল করা গেলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, উন্নয়ন কাজ যেন টেকসই ও পরিবেশসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, ভাঞ্জন খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জমে থাকা পলি অপসারণ, খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পাড় সংরক্ষণ করা হবে। এতে আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাল খননের ছবি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার সড়ক ও বসতভিটায় পানি উঠে যেত। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও কৃষিকাজ ব্যাহত হতো। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তারা মনে করছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি কমবে এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি আসবে।
ভাঞ্জন খাল ছাড়াও ফতেপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়া খালের পুনঃখনন কর্মসূচীও উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এই খালটি ১৯৭৯ সালে খনন করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বর্তমানে ভরাট হওয়ায় এই খালও পুনঃ খনন কর্মসূচীর আওতায় আছে।