1. live@www.priyohalda.online : - : - -
  2. news@priyohalda.online : www.priyohalda.online www.priyohalda.online : www.priyohalda.online www.priyohalda.online
  3. info@www.priyohalda.online : প্রিয় হালদা :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

রাজধানী ফতেয়াবাদ!

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

নুসরাত শাহের চট্টগ্রাম বিজয়: ফতেয়াবাদের উত্থান ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের গল্প
বাংলার ইতিহাসে চট্টগ্রাম শুধু একটি বন্দরনগরী নয়—এটি ছিল শক্তির, বাণিজ্যের এবং কৌশলগত আধিপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ১৬শ শতকের শুরুতে এই অঞ্চলকে ঘিরে যে সংঘর্ষের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসে সুলতান নুসরাত শাহের নাম।

ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষে চট্টগ্রাম
হোসেন শাহী আমলে চট্টগ্রাম ছিল এক অস্থির সীমান্তভূমি। একদিকে গৌড়ের সুলতানি শক্তি, অন্যদিকে ত্রিপুরা রাজ্য এবং সমুদ্রপথে শক্তিশালী আরাকান রাজ্য—এই তিন শক্তির মধ্যে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে চলছিল টানাপোড়েন। ফলে অঞ্চলটি বারবার হাতবদল হয়েছে এবং স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল কঠিন।

প্রথম বিজয়: ত্রিপুরাদের পরাজয় (১৫১৫)
১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে যুবরাজ নুসরাত শাহ ত্রিপুরা রাজ্যের বিরুদ্ধে এক সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানে ত্রিপুরা বাহিনী পরাজিত হয় এবং চট্টগ্রাম সাময়িকভাবে গৌড়ের অধীনে আসে। এটি ছিল তাঁর সামরিক দক্ষতার প্রথম বড় প্রমাণ।
তবে এই বিজয় স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়, এবং চট্টগ্রাম পুনরায় সুলতানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

চূড়ান্ত বিজয়: আরাকানদের পরাজয় (১৫২৫)
১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে নুসরাত শাহ আবারও অভিযান পরিচালনা করেন—এবার লক্ষ্য ছিল আরাকান। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে তিনি চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করেন এবং এ অঞ্চলে সুলতানি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
এই বিজয় ছিল শুধু সামরিক সাফল্য নয়—এটি ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার এক মোড় ঘোরানো ঘটনা।

ফতেয়াবাদ: বিজয়ের রাজধানী
চট্টগ্রাম পুনর্দখলের পর নুসরাত শাহ একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন—তিনি ফতেয়াবাদকে (অর্থাৎ ‘বিজয়ের নগরী’) রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। ফতেয়াবাদ নামকরণ করেছিলেন আরেক জগদ্বিখ্যাত বুযুর্গ উমেদ খাঁ। সেটা আরেক ইতিহাস।
ফতেয়াবাদ শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল না; এটি ছিল বিজয়ের প্রতীক, সুলতানি শক্তির প্রকাশ এবং নতুন এক রাজনৈতিক বার্তার বাহক। রাজধানী স্থাপনের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে চট্টগ্রাম আর সীমান্তভূমি নয়—এটি এখন কেন্দ্রীয় শাসনের অংশ।

দীঘি ও মসজিদ: স্থাপত্যে বিজয়ের ছাপ
ফতেয়াবাদে রাজধানী প্রতিষ্ঠার পর নুসরাত শাহ সেখানে একটি বিশাল দীঘি এবং একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেন।
এই দীঘি ছিল শুধু পানির উৎস নয়; এটি ছিল জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং নগর পরিকল্পনার অংশ। অন্যদিকে মসজিদটি ছিল ধর্মীয় কেন্দ্রের পাশাপাশি সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।
এই নির্মাণগুলো একদিকে যেমন নগরজীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল, অন্যদিকে বিজয়ের স্মারক হিসেবেও কাজ করেছিল—যা শাসকের ক্ষমতা ও প্রভাবকে স্থায়ীভাবে চিহ্নিত করে।
বিলীন ঐতিহ্য: দীঘি থেকে “বড়দীঘির পাড়”
সময়ের সাথে সাথে সেই বিশাল দীঘি হারিয়ে যায়। ১৯শ শতকের শেষভাগে এটি ভরাট হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। তবে ইতিহাস পুরোপুরি মুছে যায়নি—দীঘির নাম থেকেই এলাকার নাম হয়ে যায় “বড়দীঘির পাড়”, যা আজও সেই অতীতের স্মৃতি বহন করে।
ভেঙে যাওয়া মসজিদ: এক অপূরণীয় ক্ষতি
নুসরাত শাহ নির্মিত মসজিদটি দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হলেও ১৯শ শতকের সত্তরের দশকে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে এতে মারাত্মক ফাটল ধরে। ফলে এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তা সংরক্ষণের পরিবর্তে ধ্বংসের পথ বেছে নেয়। প্রাচীন সুলতানি মসজিদটি ভেঙে ফেলে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এর ফলে ইতিহাসের এক অমূল্য স্থাপত্য নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে যায়।

শেষ সাক্ষ্য: দুটি স্তম্ভ
তবে সবকিছু হারিয়ে যায়নি। মসজিদের কিছু অংশ, বিশেষ করে দুটি প্রাচীন স্তম্ভ, সংরক্ষিত অবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে পৌঁছে।
এই স্তম্ভগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়—এগুলো ১৬শ শতকের সুলতানি স্থাপত্য, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষ্য।
অবহেলায় হারাতে বসা ইতিহাস
দুঃখজনকভাবে, এই অমূল্য স্তম্ভগুলো দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। ঝড়-বৃষ্টি, পরিবেশগত ক্ষয়—সবকিছুর মধ্যেই এগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে।
এটি শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক অবহেলা নয়; এটি আমাদের ইতিহাসচর্চার দুর্বলতার প্রতিফলন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট